Sahittya

Literature magazine | Bangla & english worldwide

The path of love : Osho Rajneesh

The path of love : Osho Rajneesh

দি পাথ অব লাভ : ওশো রজনীশ : ৪

The path of love : Osho Rajneesh

প্রেমের সরল পথ (দি পাথ অব লাভ) : ওশো রজনীশ

অনুবাদ : শুভ্র চৌধুরী

 

কবির বলেন, ঘরই হচ্ছে স্থায়ী জায়গা…

তুমি জন্ম নিয়েছ ঘরে; ঘর ছাড়া জন্ম নেয়া অসম্ভব, ঘর হচ্ছে তোমার প্রাকৃতিক উপাদান। ঘরেই থাকো। আর স্মরণে রাখো ঘর আর বাড়ির পার্থক্য : বাড়ি হচ্ছে এমন এক জায়গা যেখানে তুমি ভালোবাসা ছাড়াও বসবাস করতে পারো; আর ঘর হচ্ছে এমন এক বাড়ি যেখানে তোমার প্রেমের সাথে বসবাস। যখন একটি বাড়ি ভালোবাসায় ভরপুর হয়, তখনই কেবল তাঁকে ঘর বলা যায়। সকল বাড়িই ঘর নয়। অনেক মানুষ বাড়িতে বসবাস করে এবং তারা ভাবে যে তারা ঘরেই আছে। প্রতারিত হয়ো না : সকল বাড়িই ঘর নয়, কিন্তু সকল ঘরই বাড়ি। ঘরে রয়েছে বাড়ির চেয়ে বেশি কিছু—একটি বাড়ি হচ্ছে জাস্ট একটি স্ট্রাকচার; এর কোনো আত্মা নেই। যখন তা ভালোবাসা সমৃদ্ধ হয়, ভালোবাসার দ্বারা উষ্ণতা লাভ করে, ঘনিষ্টতা অন্তরঙ্গতা উদারতা বন্ধুবাৎসল্য দ্বারা সমৃদ্ধ হয়; যখন তাতে ভালোবাসা থাকে, তখন সেই বাড়ি ঘরে পরিণত হয়, তখন সেই বাড়ি আলোকিত হয়।

আর তুমি পার্থক্য দেখতে পারো : যখন তুমি একটি বাড়িতে প্রবেশ করবে বুঝতে পারবে যে এটি বাড়ি নাকি ঘর। যদি এটা ঘর হয়, তুমি অভ্যর্থনা অনুভব করবে, উষ্ণতা অনুভব করবে। তুমি একটা ভিন্ন তরঙ্গ, একটা ভিন্ন পরিবেশ টের পাবে। যদি এটা শুধু একটা বাড়ি হয়, তবে একটা শীতল আকৃতি অনুভব করবে—সিমেন্ট, কংকরের, কিন্তু সেখানে কোনো আত্মা টের পাবে না। এটা শীতলভাবে সুন্দর আকৃতিপ্রাপ্তও হতে পারে, ভালো নির্মাণশৈলী, কিন্তু তুমি সেখানে কোনো উষ্ণতা টের পাবে না, সেখানে তুমি এমন কোনো তরঙ্গ অনুভব করবে না যে এখানে কিছু লোক প্রেমের মাঝে বসবাস করছে; জীবনকে উদযাপন করছে; এমন কিছু লোক যারা আলোকিত; ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞ। শীতল, আমন্ত্রণবিহীন—তখন এটিকে বলা যায় একটি বাড়ি; উষ্ণতা, অভ্যর্থনা… তুমি হঠাৎ চারিদিকে উষ্ণ একটি পরিবেশ অনুভব করবে। হতে পারে সেই বাড়িতে কেউ নেই, কিন্তু যদি সেখানে ভালোবাসা থাকে, তখন সেই বাড়িটি ভালোবাসার তরঙ্গে তরঙ্গায়িত হতে থাকে।

এক সময় আমি খুব সুন্দর একজন মানুষের সাথে থাকতাম, যিনি ছিলেন একজন কবি, একজন সাধক এবং আমরা প্রায়ই একসাথে ভ্রমণে বের হতাম। তাঁর ছিল অত্যাধিক কৌতূহলী স্বভাব : সে যখন কোনো বাড়িতে যেত, তখন বাড়ির কোণায় গিয়ে ঘ্রাণ শুঁকত। আমি জিজ্ঞেস করতাম, ‘তুমি কি করছ?’ সে বলত, ‘আমি দেখার চেষ্টা করছি যে, এটি কি একটি বাড়ি নাকি ঘর।’ এবং এ-সম্পর্কে তাঁর পরিষ্কার ধারণা ছিল; সে এ-ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত ছিল। আমি কখনো তাঁর ভুল হতে দেখিনি। ঘ্রাণ শুঁকার সাথে সাথে সে বলত, ‘এটাকে মনে হচ্ছে একটি ঘর; আমরা এখানে অবস্থান করতে পারি।’ আর সে সবসময় ঠিকই বলত। অথবা কখনো সে বলত, ‘এখান থেকে চলো; এটি একটি বাড়ি। এটা শেষ করে দেবে!’

উপর থেকে তুমি এর পার্থক্য দেখতে পাবে না, কিন্তু একটি বাড়ি একটি জীবন্ত জিনিস। যখন সেখানে ভালোবাসা থাকে, তখন সেটা জীবন্ত; পার্থক্য একই। তুমি সেখানে একটা দেহের শুয়ে থাকা দেখতে পাবে; কিভাবে তুমি সিদ্ধান্ত নেবে যে এটি জীবন্ত না মৃত : তুমি যদি একে স্পর্শ করো, এর উষ্ণতা টের পাবে, তুমি যদি তার নাকের কাছে হাত রাখো, তার শ্বাস-প্রশ্বাস টের পাবে, তার হৃদপিণ্ডের উঠানামা টের পাবে, হার্টবিট শুনতে পাবে; তখন তুমি বলতে পারবে যে এটা মৃত নয়। ঠিক একইভাবে, একটি ঘরের বিট থাকে, শব্দ থাকে, শ্বাস-প্রশ্বাস থাকে, পালস থাকে। একটি মৃত বাড়ির এসব কিছুই থাকে না।

এখন পৃথিবীতে অনেক বাড়ি আছে, কিন্তু ঘর উধাও হয়ে গেছে।

কবির বলেন,
ঘরই হচ্ছে স্থায়ী জায়গা;
ঘরেই রয়েছে প্রকৃত বাস্তবতা…

তুমি ঘরে জন্ম নিয়েছ, তোমার শিকড় ঘরেই; তোমার উচিত ঘরে থাকা এবং ঘরেই মৃত্যুবরণ করা—অন্য কোথাও যাবার প্রয়োজন নেই। ঈশ্বরের গন্তব্যে এভাবেই পৌঁছুতে হবে। যেভাবে একটা বৃক্ষের মূল মাটিতে থাকে, সেভাবে তোমার শিকড়ও ঘরে, প্রেমের মাঝে, সমাজের মাঝে।

…ঘরই হচ্ছে প্রকৃত সত্যে পৌঁছার সহায়ক।
তাই যেখানে আছো সেখানেই থাকো।
নির্ধারিত সময়ে সবকিছুই তোমার কাছে পৌঁছে যাবে।

তাই তাড়াহুড়োর কিছু নেই। অতিশয় লালায়িত হওয়ার কিছু নেই। আর এমন কামনা করো না যে এখনই সবকিছু ঘটে যাবে। প্রতীক্ষায় থাকো। হিমালয় কিংবা কোনো জঙ্গলে গমনের প্রয়োজন নেই; কোনো ক্যাথলিক গির্জা কিংবা জৈন সাধুর কাছে যাবার প্রয়োজন নেই। যেখানে আছো সেখানেই থাকো—প্রেমের মাঝে থাকো, নিবিড় সম্পর্কের মাঝে থাকো, আর অপেক্ষা করো। যখন সময় হবে, তিনি আসবেন, তিনি নিজেকে প্রকাশ করবেন।
অপেক্ষা হচ্ছে একটি অন্যতম মহান ধর্মীয় গুণ। অপেক্ষা প্রচেষ্টার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। প্রচেষ্টা হচ্ছে ইগোর একটি ছায়া। যখন তুমি প্রচেষ্টা চালাও, তখন তুমি বলো যে, ‘আমি এটি পেতে যাচ্ছি; এমনকি আমি ঈশ্বরকে পেতে যাচ্ছি। আমি কখনো বাস্তবতাকে পাশ কাটিয়ে যেতে দেব না। আমাকে জানতে হবে। ঈশ্বরকে আমার হাতে রাখতে হবে। আমি দুনিয়ায় ঘোষণা করতে যাচ্ছি যে, আমি আমার গন্তব্যে পৌঁছে গেছি।’

প্রচেষ্টা আসে ইগো থেকে; অপেক্ষা ইগোহীন। অপেক্ষা নিষ্ক্রিয়; একজন অপেক্ষা করে… এ জন্যই সকল সাধকই বলেন যে, যদি ঈশ্বরকে জানতে হয় তবে নারীসুলভ হতে হবে। পুরুষমানুষ আগ্রাসী। পুরুষ হচ্ছে প্রচেষ্টা, আক্রমণ, ইচ্ছা; নারী নিষ্ক্রিয়, ধারণক্ষম, স্বাগতপূর্ণ। নারী হচ্ছে একটি আধার; যখন ঈশ্বর আসেন, নিষ্ক্রিয় অপেক্ষারত মন আধারে পরিণত হয়, ঈশ্বরকে ধারণ করে।

ও সাধু! সরল মিলনই উত্তম…

সহজ সমাধী : সহজ স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দই উত্তম। এর চারিপাশে জটিল কাঠামো তৈরি করে নিও না। নানা রকম নিয়ম-কানুন, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম—এর চারিপাশে এমন হাজারো কাঠামো তৈরি করে নিও না। কবির সহজের পক্ষে; কঠিন করো না, সবকিছু প্রাকৃতিক নিয়মে হতে দাও। তিনি আর কি প্রচার করবেন?

যখন পরম প্রভুর সাথে আমার সাক্ষাৎ হবে,
সেদিন আমাদের প্রেমের খেলায় কোনো পরিসমাপ্তি থাকবে না।

ঈশ্বর অবিরত তোমার সাথে খেলছেন। তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছ না; তিনি অবিরত তোমায় উপহার দিয়ে যাচ্ছেন, তিনি প্রতিনিয়ত তার অস্তিত্বকে তোমার মাঝে গড়ছেন। তুমি হয়য়ো পুরোপুরি ভুলে গেছ, কিন্তু তার খেলা চলছে। একমাত্র যে জিনিসটা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে ‘সূরাতি’, স্মরণ। যাকে গার্ডজেফ স্মরণ বলে থাকেন, কবির তাকেই বলছেন ‘সূরাতি’।

কিছুই প্রয়োজন নেই। আমরা খেলার মধ্যে আছি, ঈশ্বর হলেন আরেকজন পার্টনার, আর এই ভালোবাসার লীলা চলছে অনন্তকাল ধরে। আমরা জাস্ট ভুলে আছি; আমরা একটি সুস্পষ্ট সত্যকে ভুলে আছি।

স্মরণ করো।
আমি আমার চোখ বুজি না…
শোনো। কবির বলেন, ‘আমি আমার চোখ বুজি না’—এমনকি এতটুকু প্রচেষ্টা চালাতেও আমি রাজি নই।
আমি আমার চোখ বুজি না, কান বন্ধ করি না,
আমার দেহকে এলিয়ে দেই না;
আমি দু নয়ন ভরে শুধু তারেই দেখি আর হাসি…
…কারণ আমি সর্বত্র তাকেই দেখি : কত সুন্দর তিনি, আড়ালে।
আমি দু’নয়ন ভরে শুধু তারেই দেখি আর হাসি
আর সর্বত্র তার সৌন্দর্য্য অবলোকন করি :
আমি তার নাম জপি,
আর আমি যা’ই দেখি,
তা’ই আমাকে তার কথা মনে করিয়ে দেয়;
আমি যা’ই করি, তা’ই তার আরাধনায় পরিণত হয়।
উত্থান-পতন দুই’ই আমার কাছে সমান;
সকল অসঙ্গতি এখন সমাধা হয়ে গেছে।

(চলবে)

 

The path of love : Osho Rajneesh. প্রেমের সরল পথ (দি পাথ অব লাভ) : ওশো রজনীশ

ধারাবাহিকভাবে পড়তে বিষয়ে ক্লিক করুন

দি পাথ অব লাভ – ১
দি পাথ অব লাভ – ২
দি পাথ অব লাভ – ৩
দি পাথ অব লাভ – ৪
দি পাথ অব লাভ – ৫

পরবর্তী কিস্তি পর্যায়ক্রমে আসছে…

Share us

সম্পাদক

Jebunnahar Joni

জেবুননাহার জনি। Jebunnahar joni. কবি ও গল্পকার। জন্ম : ১১ জানুয়ারি, নারায়ণগঞ্জ; পৈতৃকনিবাস মাদারীপুর। পিতা : আতাউর রহমান হাওলাদার, মাতা : নুরুননাহার খান। সমাজকল্যাণে বিএ সম্মানসহ এমএ। পেশা : শিক্ষকতা। লেখার বিষয় : কবিতা ও গল্প। প্রকাশিত গ্রন্থ : মেঘলা রাতে চাঁদ (গল্প, ২০০৭), বিরান পথের কাশবন (কবিতা, ২০১৭)। পুরস্কার : গাংচিল সাহিত্য পুরস্কার (২০১১), সমধারা সাহিত্য পুরস্কার (২০১৫)।